২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যাত্রা যেন ওঠানামায় ভরা। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা গ্রুপ পর্বের শুরুতেই ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন। সেই ম্যাচে ছন্দহীন পারফরম্যান্সের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।
তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে পর্তুগালকে ৫-০ গোলের বড় জয় এনে দেন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সমর্থকদের উদ্বেগ অনেকটাই দূর হয়েছিল। ম্যাচে জোড়া গোল করে বলেছিলেন, ‘আই আম ব্যাক’। তবে পরের ম্যাচেই আবার নিষ্প্রভ দেখা গেলো রোনালদোকে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার। তবে প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও পূরণ করতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড। পুরো ম্যাচে গোলমুখে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছেন তিনি।
ম্যাচজুড়ে প্রভাব বিস্তার করতে না পারায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা ও ট্রল।
রোববারের (২৮ জুন) ম্যাচে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ভরপুর লড়াই হলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। যদিও শেষ দিকে ডাভিনসন সানচেজের করা একটি গোল অল্পের জন্য অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় কলম্বিয়াকে।
গ্রুপ কে-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে আগামী শুক্রবার তাদের প্রতিপক্ষ ঘানা। অন্যদিকে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠা পর্তুগাল আগামী বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার। সেই ম্যাচে রোনালদোর প্রতিপক্ষ হবেন তার সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ লুকা মদরিচ।
কলম্বিয়ার বিপক্ষে রোনালদোকে পুরো ম্যাচেই ছাপিয়ে যান তার আরেক সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ হামেস রদ্রিগেজ। ৩৪ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডার নিজের অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতায় ম্যাচে বারবার পার্থক্য গড়ে দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল কলম্বিয়া। প্রথমার্ধেই জোহন কর্দোবা কাছ থেকে হেডে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। পরে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেওয়ার পর তার জোরালো শট দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।
নিজ দেশের হয়ে রেকর্ড ১১তম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামা হামেস রদ্রিগেজও একাধিকবার নিজের মেধার ঝলক দেখান। তার চমৎকার ব্যাকহিল পাস থেকে জোহন আরিয়াস গোলের সুযোগ তৈরি করলেও রুবেন নেভেস গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে পর্তুগালকে রক্ষা করেন।
অন্যদিকে পুরো ম্যাচে রোনালদোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল একটি ফ্রি-কিক। তবে সেটিও সরাসরি কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসের হাতেই চলে যায়। নিষ্প্রভ এই পারফরম্যান্সের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি।


